দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা; নিরাপত্তার কারণে বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে সরকারের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেছেন তারা।
বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে।
মোদি বলেন, “দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে চলা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ, শিবাজি স্টেডিয়ামসহ আরও কয়েকটি স্টেশন।
মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মী, শিক্ষার্থী ও দৈনন্দিন যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেককে বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, আবার অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্যাক্সি বা অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করছেন।
উল্লেখ্য, বুধবারও একই ১৬টি মেট্রো স্টেশন প্রায় আট ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার আবারও সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
মন্তব্য করুন