আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুলাই ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২৩ জন

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন যুবরাজ: দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর আগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন এবং তা পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সামরিক পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন নিশ্চিত করতে চেয়েছিল রিয়াদ।

সোমবার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলা এবং এর জবাবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ২০২২ সালের পর দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সীমান্ত-অতিক্রমী উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিকেও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত সপ্তাহে সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে জানায় যে তারা হুতিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করছে। এরপর সৌদি রাষ্ট্রদূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে রুবিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপ হয়।

এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ওই আলাপেই হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ এবং ট্রাম্প এতে সম্মতি জানান।

তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে তিনি ইরানের কঠোর সমালোচনা করেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় প্রায় ১০ দিন আগে, যখন ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানায় অবতরণ করে। সৌদি আরবের আশঙ্কা ছিল, ওই ফ্লাইটে অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ বা ইরানি সামরিক উপদেষ্টাদের আনা হতে পারে।

সোমবার একই বিমান আবার সানার দিকে গেলে সৌদি বাহিনী বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালায়। এতে উড়োজাহাজটি গতিপথ পরিবর্তন করে আল-হুদাইদাহ শহরে অবতরণ করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে জানায়, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান সংস্থারই সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করা উচিত হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকারের অবস্থান গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠন

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে ফ্লেমিংয়ের নতুন ছক

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ, গোয়েন্দাদের সতর্কতা

বয়স বাড়লেও কেন নতুন করে অ্যালার্জি হয়, জানুন কারণ ও করণীয়

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

১০

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

১১

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

১২

আসিয়ান কাপে বড় কিছুর প্রত্যাশা জামালের, লক্ষ্য পরের রাউন্ড

১৩

আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা? রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

১৪

ঢাকাজুড়ে কড়া নজরদারি, চেকপোস্টে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি

১৫

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৬

কর্মসূচিতে ঠাসা তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর

১৭

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে নেই নির্দেশনা

১৮

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ালেন ট্রাম্প

১৯

‘বাইরের কেউ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঠিক করে দিতে পারে না’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০