তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা হারানোর শোক সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আব্দুল সালামের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার বিকেলে রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ এলাকায় শোকাহত পরিবারটির খোঁজ নিতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার তুলে দেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।
ইউএনও তানজিলা তাসনিম মরহুম আব্দুল সালামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে নিজের বসতঘর সরানোর সময় ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আব্দুল সালাম (৪৫)। পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে নদী অব্যাহতভাবে জনপদ গিলে খাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২০ দিনে প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি, শতাধিক গাছপালা এবং কয়েক হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ এবং প্রায় ২০০টি বসতবাড়ি এখন নদীভাঙনের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে।
নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
মন্তব্য করুন