‘জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শেষ হয়নি’: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। যে প্রত্যাশা ও অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হলেই জুলাই সার্থক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কারের জন্য গঠিত ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, মাসের পর মাস আলোচনা করে কমিশন একটি চার্টার তৈরি করেছে। ছোটখাটো বিভিন্ন বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
তার দাবি, এসব মতভেদের বড় একটি অংশ বর্তমান সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসেছে।
নিজেদের দেওয়া ভিন্নমতের ব্যাখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কিছু বিষয়ে তাদের অবস্থান কোনো দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং জনগণের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা দলীয় কর্তৃত্বের মাধ্যমে গঠিত না হয়। নির্দলীয় কমিশনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ ও গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, দলটি একসময় গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং জনগণ গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাই বাধ্য থাকবে বলে জানিয়েছিল।
তবে নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানে কোনো বিষয় না থাকলেও জাতির প্রয়োজন ও জনগণের অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার ভাষায়, “জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সবচেয়ে বড় আইন।”
বর্তমান সরকার গঠনের পরও কাঙ্ক্ষিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, একই ধরনের দুর্নীতি ও দলীয়করণ চলতে থাকলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
শফিকুর রহমান প্রশ্ন রাখেন, এত মানুষ আহত ও পঙ্গু হওয়ার পর, জীবন ঝুঁকিতে রেখে মানুষ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরও যদি কেবল একটি দলকে সরিয়ে একই ধরনের আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানো হয়, তাহলে সেই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে তারা প্রতিকার পাননি। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের কথা জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “আপনাদের অধিকার সংসদে তারা মেনে নেয়নি। এখন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। সেই আন্দোলনে আমরা আছি।”
‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনো সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরার আয়োজন নয়।
তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে জনগণ কীভাবে নিগৃহীত ও নির্যাতিত হয়েছে, তা প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতির প্রত্যাশা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশাগুলোও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী শাসনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা দেশের মুক্তির জন্য ভূমিকা রেখেছেন এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের অবদানও তাদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, “ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধাশীল।”
সবশেষে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পাবে না।
মন্তব্য করুন