আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখতে স্থানীয় নির্বাচনে ‘একক’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তে এগোচ্ছে দলটি। একই সঙ্গে দেশজুড়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে চায় বিএনপি। তার আগে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক স্থবিরতা দূর করে দলকে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি দায়িত্বশীল নেতাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হলেও প্রার্থী বাছাইয়ে যেন বিভক্তি না সৃষ্টি হয়, সে জন্য সবাইকে একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
দলটির নেতারা জানান, অতীতের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে যেসব সাংগঠনিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতেই এবার ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিতর্কিত ব্যক্তি বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারীদের স্থান না দিয়ে তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে আনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নেবে না। তবে স্থানীয়ভাবে নেতারা যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারেন, তাহলে দলগতভাবে সেই একক প্রার্থীকেই সমর্থন দেওয়া হবে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করে স্থানীয় নির্বাচন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত করাই বিএনপির বর্তমান মূল লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন