শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠন ও অ্যাপেক্স বডির নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। তবে সেই সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল (আজ) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশাও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রথম ধাপ সফল হলে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাঁচটি এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এ সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে নয়, পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। তাই সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে টেকসই সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সরকারের পরিকল্পিত কাজগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন