ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে স্বজন ও পরিচিতদের কল করে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বিধায়ক অনিল শর্মা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ধসে পড়া ভবনটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত একটি ছাত্রাবাস বা পিজি হোস্টেল। ভবনটির নাম ‘হোস্টেল ডেজ’। ইতোমধ্যে উদ্ধার করা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ করে ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জরুরি চিকিৎসাসেবা দল ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)।
বিধায়ক অনিল শর্মা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়াশোনার জন্য আসা শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে থাকতেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পাঁচ, দশ বা বিশ—যে সংখ্যাই হোক, কয়েকজন এখনও ভেতরে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সবচেয়ে আশার বিষয় হলো, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে তারা জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটকে পড়া সবাইকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের নিচের অংশ বা বেসমেন্টে কিছুদিন ধরে নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ভেতরে অন্তত ১৫ জনের মতো মানুষ থাকতে পারেন।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি গাড়ি, পুলিশ, জরুরি চিকিৎসাসেবা দল এবং এনডিআরএফ সদস্যরা কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে কংক্রিটের বড় অংশ ও বিম সরাতে ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশীশ সুদ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে এবং পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন