কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ এনে ইউক্রেনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, হামলায় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ হামলা হিসেবে অভিহিত করে জানায়, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ সময় ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর স্যাটেলাইট নজরদারি চালিয়ে সেই তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করছে।
তার দাবি, এসব স্যাটেলাইট চিত্র হামলার আগে লক্ষ্য নির্ধারণ, হামলার প্রস্তুতি এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারির আওতায় ছিল চারটি বিমানঘাঁটি—এর মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে এবং একটি কুয়েতে অবস্থিত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত ইরানি নকশার ড্রোন মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইরানের হামলার মুখে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে কিয়েভ।
ইরানের অভিযোগ এবং ইউক্রেনের পাল্টা বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি ইউক্রেন।
মন্তব্য করুন