আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২১ জন

ইরানকে চাপে ফেলতে গিয়ে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জে ট্রাম্প, বলছেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত

পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি—দুই ইস্যুতেই সমঝোতা কঠিন; সামরিক নয়, কূটনীতিকেই সমাধানের পথ দেখছেন জোয়ি হুড

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিউনিসিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক জোয়ি হুড।

তার মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার সুযোগ নষ্ট হয়েছে। ফলে এখন ট্রাম্পকে আগের তুলনায় আরও জটিল ও উচ্চাভিলাষী একটি চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।

জোয়ি হুড বলেন, ট্রাম্পের সামনে এখন শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চ্যালেঞ্জই নেই; একই সঙ্গে এমন একটি সমঝোতাও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে আসে।

তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একসঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।

হুডের মতে, সামরিক শক্তি দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “যদি সামরিক সমাধান কার্যকর হতো, তবে এতদিনে সেটি ফল দিত। কূটনীতিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।”

সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে

সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ এখন একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে। তার দাবি, ইরান বিভিন্ন দেশকে এ সংঘাতে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, তেহরানের ধারণা—আরও দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে হুড মনে করেন, এই হিসাব বাস্তবসম্মত নয়।

তার বিশ্লেষণে উঠে আসে, বিশ্বের অনেক দেশ ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে একমত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তারা সহজে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না।

চীন হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী

তবে চীনকে সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন জোয়ি হুড। ইরানের অন্যতম বৃহৎ তেল ক্রেতা হিসেবে বেইজিং যদি এ সংকটে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ দেশ একদিকে যেমন ট্রাম্পের নীতির পূর্ণ সমর্থক নয়, অন্যদিকে তেমনি ইরানের পক্ষেও সরাসরি অবস্থান নিতে আগ্রহী নয়। এই দ্বৈত অবস্থানই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং ইরান ইস্যুতে কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে ফ্লেমিংয়ের নতুন ছক

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ, গোয়েন্দাদের সতর্কতা

বয়স বাড়লেও কেন নতুন করে অ্যালার্জি হয়, জানুন কারণ ও করণীয়

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

১০

আসিয়ান কাপে বড় কিছুর প্রত্যাশা জামালের, লক্ষ্য পরের রাউন্ড

১১

আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা? রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

১২

ঢাকাজুড়ে কড়া নজরদারি, চেকপোস্টে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি

১৩

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৪

কর্মসূচিতে ঠাসা তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর

১৫

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে নেই নির্দেশনা

১৬

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ালেন ট্রাম্প

১৭

‘বাইরের কেউ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঠিক করে দিতে পারে না’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপে মিলবে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

১৯

গণভোটের রায় না মানলে এক দফার আন্দোলন’: মামুনুল হক

২০