হাজারো বিক্ষোভকারীর সড়ক অবরোধ; কঠোর নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত এএফডির বার্ষিক সম্মেলন, পুনর্নির্বাচিত দলীয় দুই শীর্ষ নেতা।
জার্মানির কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)–এর বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পূর্বাঞ্চলীয় শহর এয়ারফোর্টে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো বিক্ষোভকারী সম্মেলনস্থলে যাওয়ার প্রধান সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রয়টার্স জানায়, শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, সামাজিক সংগঠন এবং বামপন্থী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
পুলিশের তথ্যমতে, এয়ারফোর্ট ও আশপাশের এলাকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামে সজ্জিত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।
সম্মেলনের শুরুতেই দলের সহসভাপতি আলিস ভাইডেল এবং টিনো ক্রুপালা পুনর্নির্বাচিত হন। তাদের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এএফডির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, ভোটার সমর্থনের দিক থেকে এএফডি এখন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস–এর নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোটকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এএফডি নেতারা বিক্ষোভকারীদের ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, চলতি বছরের আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। তাদের মতে, জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আস্থা হারিয়েছে এবং দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্মেলন শুরুর আগে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচারে অভিবাসনবিরোধী বার্তাসংবলিত ‘Send Them Back’ শিরোনামের একটি গান প্রচার করা হয়। এছাড়া সম্মেলনস্থলে বিক্রি হওয়া কিছু কার্ডে ‘You Will Be Deported’ (তোমাদের বের করে দেওয়া হবে)—এমন বার্তাও দেখা যায়।
এএফডির এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দলটি অভিবাসন ইস্যুকে ব্যবহার করে বিভাজনমূলক রাজনীতি উসকে দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এএফডির জনসমর্থন বেড়ে প্রায় ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ/সিএসইউ জোটের সমর্থন রয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান জার্মানির রাজনীতিতে এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন