আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচগুণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার সংশোধিত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।
দীর্ঘদিন পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে সংরক্ষিত প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সংরক্ষিত সদস্য পদের প্রতীক হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার। সাধারণ সদস্য পদে রয়েছে উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনী অনিয়মের ক্ষেত্রে ইসির ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থাও করা যাবে।
এ ছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তদারকিতে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি যুক্ত করার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে।
ভোটারের সহায়তার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি থাকতে পারবেন। তবে তিনি কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।
গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সংশোধিত বিধিমালায় সর্বোচ্চ সমান ভোট পাওয়া একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে লটারির বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পদে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে।
আগামী বছরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন