সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর যোগদান ও পদায়নের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোডম্যাপ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ জারি করে মন্ত্রণালয়। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদেশটির একটি কপি পাওয়া যায়।
মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জারি করতে হবে। কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা সম্ভব না হলে এর কারণ উল্লেখ করে কোটা ও মতামতসহ তালিকা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
নিয়োগপত্র জারির আগে প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তাসহ মূল আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাতীয়তা-সংক্রান্ত সনদপত্রও যথাযথভাবে যাচাই করে উপযুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগ আদেশ দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে হবে।
কোনো ভুলত্রুটি বা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রেখে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ না থাকলে কিংবা ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখতে হবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য থাকলেও তার নিয়োগ আদেশ জারি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের সময় তিন কপি যোগদানের অনুমতির আবেদন, এক কপি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা এবং নিয়োগপত্রের এক সেট ফটোকপি জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া সঙ্গে রাখতে হবে—
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
মন্ত্রণালয় আরও নির্দেশনা দিয়েছে, নিয়োগপত্রের নির্ধারিত নমুনা অনুযায়ী আদেশ জারির আগে প্রার্থীর নাম, মা, বাবা বা স্বামীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচিত প্রার্থীদের ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
মন্তব্য করুন