নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩১ জন

ডিবি হারুনের বিরুদ্ধে তমিজী হককে নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখার অভিযোগ

রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যবহার করে ব্যবসায়ী আদম তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। এমনকি তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণ করারও চেষ্টা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তমিজী হককে আটকে রাখার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিরাময়কেন্দ্রের পাশাপাশি তৎকালীন প্রভাবশালী মহলেরও ভূমিকা ছিল। তার পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

গ্রেপ্তারের পর নিরাময়কেন্দ্রে

২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেসবুক লাইভে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর আদম তমিজী হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর বীকন পয়েন্ট নামের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাকে সেখানে আটকে রাখার বিনিময়ে নিরাময়কেন্দ্রটি কয়েক লাখ টাকা সার্ভিস চার্জ আদায় করে। একপর্যায়ে তমিজী হককে মানসিক রোগী প্রমাণ করতে কয়েকজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞকেও সেখানে নেওয়া হয়।

তবে চিকিৎসকদের একটি দলের সদস্যের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তমিজী হকের মধ্যে মানসিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে চিকিৎসা সনদ দিতে তারা রাজি হননি। বরং তাকে আটকে রাখতে হলে আদালতের আদেশ প্রয়োজন বলে জানানো হয়। এতে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ ওই চিকিৎসকের।

বিশেষ ব্যবস্থায় আলাদা রাখা

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তমিজী হককে বেশ কিছুদিন নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে কেন্দ্রটির একটি ফ্লোর ফাঁকা করে সেখানে তাকে একাই রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সেখানে তার জন্য পৃথক খাবার, পানীয় ও বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার অভিযোগ

নারকোটিক্স বিভাগের এক কর্মকর্তার দাবি, বীকন পয়েন্টে তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হারুন অর রশীদের ঘনিষ্ঠতার কারণে তার কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করতেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হারুন অর রশীদ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

নিরাময়কেন্দ্র নিয়ে আরও অভিযোগ

প্রতিবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন নিরাময়কেন্দ্রে রোগীদের অবৈধভাবে আটকে রাখা, মাদকাসক্ত সাজিয়ে বন্দি করা এবং চিকিৎসায় অনিয়মের আরও কয়েকটি অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে রোগীদের নিরাপত্তা ও অধিকার আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে ফ্লেমিংয়ের নতুন ছক

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ, গোয়েন্দাদের সতর্কতা

বয়স বাড়লেও কেন নতুন করে অ্যালার্জি হয়, জানুন কারণ ও করণীয়

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

১০

আসিয়ান কাপে বড় কিছুর প্রত্যাশা জামালের, লক্ষ্য পরের রাউন্ড

১১

আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা? রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

১২

ঢাকাজুড়ে কড়া নজরদারি, চেকপোস্টে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি

১৩

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৪

কর্মসূচিতে ঠাসা তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর

১৫

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে নেই নির্দেশনা

১৬

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ালেন ট্রাম্প

১৭

‘বাইরের কেউ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঠিক করে দিতে পারে না’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপে মিলবে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

১৯

গণভোটের রায় না মানলে এক দফার আন্দোলন’: মামুনুল হক

২০