অসুস্থতাজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমপি। সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন রাজনীতিককেই দেখতে চায় দলটি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা উচিত। কারণ আগামী দিনগুলো বিএনপি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর পরামর্শ বা পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নিতে হবে, যিনি বিএনপি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবেন না।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।
দলের ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন, একজন নারী অথবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো রাজনীতিককে রাষ্ট্রপতি করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা যাবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তিও আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করা হলে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একাংশের মতে, পরবর্তী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আবার কেউ কেউ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় আনছেন।
সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের নামও মহাসচিব পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলবে। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি আরও জানান, পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায় এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া ও সরকারের করণীয় নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন ‘মাফিয়া সরকারের আমলে’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সব সময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।
স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন। স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া ছিল।
তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন