ফেসবুক পোস্টে কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন, হাসনাতের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরলেন তিনি
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেছেন, ‘হুজুররা হাসনাতের বেলায় চেতেছে, অথচ বিএনপির বেলায় চুপ।’
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের উদ্দেশে মাদানী বলেন, হাসনাতের ক্ষেত্রে এত প্রতিক্রিয়া দেখানো হলেও বিএনপির ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা কিংবা অন্য কারও বক্তব্যের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের আহ্বানে কোনো মাদ্রাসাছাত্র শাহবাগে গিয়েছিল কি না। একইভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে কার আহ্বানে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে নিজের যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে মাদানী বলেন, একসময় হাসনাত তাকে ফোন করে ঢাকায় এসে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে তিনি ঢাকায় গিয়ে শাহবাগে অনেক মাদ্রাসাছাত্রকে উপস্থিত দেখেছেন বলেও দাবি করেন।
মাদানী আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হাসনাত আব্দুল্লাহর আমন্ত্রণে তার বাড়িতে আয়োজিত মাহফিলেও তিনি অংশ নিয়েছেন।
রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের তিনি ‘বাইরের এজেন্ট’ মনে করেন এবং তাদের বক্তব্যের কখনো প্রতিবাদ করেন, আবার কখনো করেন না। তবে যাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে, যাদের সঙ্গে আন্দোলনে একসঙ্গে ছিলেন এবং বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের কাছ থেকে ভিন্ন ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করেন বলে জানান তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি ও নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন মাদ্রাসা বা মসজিদে গেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্মান ও ভালোবাসা পান বলেও উল্লেখ করেন মাদানী। তার মতে, এ কারণে তাদের কেউ সংসদের মতো জায়গায় ‘না জেনে, না শুনে’ বক্তব্য দিলে তা কষ্টদায়ক মনে হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে থাকা কিছু ব্যক্তির বক্তব্য তাদের কাছে নতুন কিছু মনে হয় না। কিন্তু যাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এবং যাদের প্রতি ভালোবাসা ও আস্থা রয়েছে, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণকে তিনি ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখেন।
পোস্টের শেষাংশে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না।’
তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন