অনলাইন ডেস্ক
২১ জুন ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৪৪ জন

জুয়া নিয়ে হচ্ছে কঠোর আইন

সরকার অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, বেটিং ও আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শিগগিরই আইনটি সংসদে পাস করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) প্রস্তাবিত আইনের ৩৯(১) ও ৩৯(২) ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে সংশোধন বা প্রয়োজনে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। ওই দুই ধারায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেবল ‘বিশ্বাস’ বা ‘সন্দেহের’ ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ, তল্লাশি, তথ্য সংগ্রহ, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব আছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট বাতিল করে বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন (অনলাইন/অফলাইন) ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে অনলাইন, রিমোট গ্যাম্বলিং, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে আইনি সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। সাইবার স্পেসে জুয়ার জন্য পোর্টাল, অ্যাপস তৈরি বা প্রচার করা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বেটিংয়ের অপরাধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এ আইনের অধীনে সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে।
খসড়া আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১৮৬৭ সালের পুরোনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট বর্তমান ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত। বিদেশভিত্তিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম চ্যানেল, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থ পাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।

খসড়া আইনে বিদেশের অধ্যায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন এ আইনের অধীন অপরাধ করলে এবং ওই অপরাধের প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিলক্ষিত হলে তা বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। এরই অংশ হিসেবে বিদেশি সার্ভার, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনগণকে লক্ষ্য করে জুয়া বা বেটিং পরিচালনা করলে এ আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।

খসড়া আইনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং সম্পর্কে বলা হয়েছে-কোনো ব্যক্তি খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতার ফলাফল পূর্বনির্ধারণ, প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধা বিনিময় করলে তা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অপরাধ হবে। কোনো ব্যক্তি খেলার নির্দিষ্ট ঘটনা, অংশ বা মুহূর্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধা বিনিময় করলে তা স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধ হবে। ম্যাচ ফিক্সিং অপরাধের জন্য খসড়া আইনে শাস্তি হিসেবে অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ‘ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন।
এদিকে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) অনলাইন ও অফলাইন জুয়া ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ আইন প্রণয়নের সরকারি উদ্যোগকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানালেও প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে সংশোধন বা প্রয়োজনে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক বিবৃতিতে এইচআরএফবি বলেছে, প্রস্তাবিত আইনের ৩৯(১) ও ৩৯(২) ধারায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেবল ‘বিশ্বাস’ বা ‘সন্দেহের’ ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ, তল্লাশি, তথ্য সংগ্রহ, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব আছে। এসব ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদন, স্বাধীন তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে তা নজরদারিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করে এইচআরএফবি।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইস বা ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশের ক্ষমতা অবশ্যই সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এ ছাড়া খসড়া আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে যে ধরনের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটিও যথাযথ পর্যালোচনার দাবি রাখে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারে ৮, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

নতুন রাস্তা কেটে নালা, দ্বিগুণ দামে ডাস্টবিন—এলজিইডির প্রকল্পে প্রায় ২১ কোটি টাকার অনিয়ম

পাকিস্তানের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ হাতছাড়া বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, উদ্ধার ৫৭২ কঙ্কাল

ফিফার কার্যক্রমে স্বাধীন পর্যালোচনা ও সংস্কারের প্রস্তাব ইনফান্তিনোর

ট্রাম্প-তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে যা বললেন হুমায়ূন কবির

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকারের অবস্থান গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠন

১০

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে ফ্লেমিংয়ের নতুন ছক

১১

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

১২

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ, গোয়েন্দাদের সতর্কতা

১৩

বয়স বাড়লেও কেন নতুন করে অ্যালার্জি হয়, জানুন কারণ ও করণীয়

১৪

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজন গ্রেপ্তার

১৫

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৬

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

১৭

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

১৮

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

১৯

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

২০