ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের বিজনেস ফোরামে তিনি বলেছেন, নিরাপদ সমুদ্রপথ, সচল সরবরাহ ব্যবস্থা ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অগ্রগতি সম্ভব নয়।
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মোদি এ উদ্বেগ জানান।
মোদি বলেন, ভারত সবসময় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নাবিকদের নিরাপত্তার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এসেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিকস দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলো বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি এ দেশগুলোর দখলে।
মোদি জানান, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক জিডিপি প্রায় আড়াই গুণ বাড়লেও ব্রিকস দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। একই সঙ্গে ব্রিকস দেশগুলো বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে জানিয়ে মোদি বলেন, দেশটি এখন পর্যন্ত ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে।
ব্রিকসের বর্তমান সভাপতিত্বের আওতায় কৃষি, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্মার্ট গ্রিডের মতো বিভিন্ন খাতে নতুন সহযোগিতা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসাগুলোর বাজার ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ব্রিকস ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক, ব্রিকস এমএসএমই পোর্টাল ও ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ডের কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মোদি।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মোদি বলেন, সংঘাত নিরসনের একমাত্র পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন