মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা; যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের এই ফোনালাপকে চলমান সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলোচনায় আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো হামলায় আঞ্চলিক দেশগুলো অংশ নিলে তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা এর আগেও সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কূটনৈতিক যোগাযোগও জোরদার করেছে তেহরান।
এ লক্ষ্যে আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন। এসব আলোচনায় সম্ভাব্য সংঘাতের বিস্তার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়।
ফোনালাপগুলোতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া বিবৃতি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরানের দাবি, অননুমোদিত রুটে জাহাজ চলাচল, বাণিজ্যিক জাহাজের আড়ালে সামরিক তৎপরতা, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ এবং সম্ভাব্য বিমান হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
ইরানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নতুন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জল্পনার মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা প্রতিশোধমূলক হামলার পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিস্তৃত করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
মন্তব্য করুন