ভারতের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উভয় পক্ষই সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করলেও, আলোচনার উদ্যোগ কে নেবে—তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।
আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা সরে আসবে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, “সরকার যদি আলোচনা করতে চায়, তাহলে তাদেরই আমাদের কাছে আসতে হবে। আমাদের শর্ত মেনেই আলোচনা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারের অহংকারের অবসান হওয়া উচিত এবং আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, সরকারি সূত্রের দাবি, আন্দোলনকারীরা আলোচনায় এলে সরকার সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বা যন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
মঙ্গলবার সরকার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের কথা থাকলেও, তা ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ৩২তম দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, সরকার আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করছে। তাঁর দাবি, একদিকে সংলাপের আহ্বান জানানো হলেও অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সিজেপির প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোন নিয়ে দীর্ঘ সময় একটি সরকারি বাসভবনে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “একদিকে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হচ্ছে—এভাবে কোনো অর্থবহ সংলাপ হতে পারে না।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার সিজেপির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা। বৈঠকে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
একই দিন হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনার জন্য সরকার ও আন্দোলনকারীরা পরস্পরকে দায়ী করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন