মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, “তারা সেখানে আপনাদের চায় না। আপনাদের পুনঃমোতায়েন করা উচিত।” একই ধরনের অবস্থান লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, নেতানিয়াহু আলোচনায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছেন।
বর্তমানে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছে। ইসরাইলের দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার মতো ভবিষ্যৎ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন। তবে ইসরাইলের সরকার ও নিরাপত্তা মহলের একটি অংশ এসব এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরেই ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আলোচনার অংশ হিসেবে সিরিয়ার দখলকৃত অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। তবে এ বিষয়ে নেতানিয়াহু সরকারের অনীহার কারণে অগ্রগতি সীমিত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রোমে ইসরাইল ও লেবাননের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দক্ষিণ লেবাননের দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হয়। যদিও এখনো ওই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়নি।
লেবানন সরকার দ্রুত সেনা প্রত্যাহার ও একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলের দাবি, হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি অপসারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেনা সরাতে আগ্রহী নয়।
হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে তার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
মন্তব্য করুন