জাতীয় ইমাম সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী
মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়মুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ইমাম ও মসজিদকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এমপি।
তিনি বলেছেন, মসজিদ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি মানুষের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা ও অপরাধ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে। ইমাম-খতিবদের সম্মিলিত উদ্যোগে মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার হলে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অপরাধমুক্ত সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ইমাম ও মসজিদের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ইমাম-খতিবরা জুমার খুতবা, ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, আল্লাহভীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কোরআন-সুন্নাহর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের চরিত্র ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একজন ইমাম শুধু ধর্মীয় নেতা নন, তিনি তার এলাকার মানুষের নৈতিক ও সামাজিক পথপ্রদর্শক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও কামরুজ্জামান রতন এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া।
সংগঠনের মহাসচিব মুফতি আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মুফতি সাইফুল্লাহ নোমানী ও মাওলানা আব্দুস সালামের যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, মুফতি শরীফুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মাওলানা সালমান আহমাদ, মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা আবু মুহাম্মদ রাহমানী, মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়জী, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা আব্দুল আউওয়াল, হেফাজতের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ড. হারুনুর রশীদ, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি আদনান মাসঊদ, মাওলানা কাজী মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল গাফফার, মুফতি জুনায়েদ আহমাদ, মুফতী রাকিব উদ্দীন, মুফতি ইবরাহীম খলীল, মাওলানা আব্দুর রহমান বেতাগী, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ ফয়াজী, মাওলানা ফশজুল্লাহ বিন মুখতার, মাওলানা মঞ্জুরুল হাসান নাদিম, মুফতি সুলতান আহমাদ ও মাওলানা ফয়সাল হাবিবীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইমাম-খতিবরা।
বক্তারা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি ও নানা ধরনের নৈতিক অবক্ষয় সমাজের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তাদের মতে, ইমাম-খতিবরা মানুষের সঙ্গে সরাসরি ও নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পান। ফলে ধর্মীয় বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, মাদকবিরোধী প্রচারণা, পারিবারিক মূল্যবোধ, অপরাধ প্রতিরোধ ও মানবিক দায়িত্ববোধের বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বক্তারা ইমামদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, সামাজিক মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি মসজিদকে সমাজ সংস্কার, মানবিক সহায়তা ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, অশ্লীলতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখতে ইমাম-খতিবদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। শেষে অপরাধমুক্ত, নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইমাম-খতিবদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন