জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, তখন আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সংসদীয় বিতর্ক অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা ও দেউলিয়া অর্থনীতির সংকট থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণে সক্ষম হয়েছে। তবে এত গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে অতীতে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়াকে তিনি দুর্নীতির পাশাপাশি জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার সংকটের কথা বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে না। বরং বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান এবং দেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংসদে গঠনমূলক আলোচনা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কৃত্রিম সমালোচনার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া হলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন