নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩৭ জন

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে পরিকল্পিতভাবে শেয়ার অধিগ্রহণ এবং ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় সাহাবুদ্দিন ছাড়াও আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন।

মামলার আরজিতে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. সাহাবুদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি দুদক। সর্বশেষ গত ২৩ জুন প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত আগামী ১১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করেন, যার মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা। এসব শেয়ার প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ও পারস্পরিক যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লেনদেনটি সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি অধিগ্রহণ করে, যাদের অনেকের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। শেয়ার স্থানান্তর, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ বিশ্লেষণ করে লেনদেনগুলো পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেছেন, মামলায় ১২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা মো. সাহাবুদ্দিন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি কি না, তা তার জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তিনি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান আইনজীবী।

জানা গেছে, মামলায় আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তবে ওই আদেশের সময় মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় তার নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসরের পর তিনি এখন ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারেন।

তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে নির্ধারিত হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারে ৮, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

নতুন রাস্তা কেটে নালা, দ্বিগুণ দামে ডাস্টবিন—এলজিইডির প্রকল্পে প্রায় ২১ কোটি টাকার অনিয়ম

পাকিস্তানের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ হাতছাড়া বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, উদ্ধার ৫৭২ কঙ্কাল

ফিফার কার্যক্রমে স্বাধীন পর্যালোচনা ও সংস্কারের প্রস্তাব ইনফান্তিনোর

ট্রাম্প-তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে যা বললেন হুমায়ূন কবির

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকারের অবস্থান গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠন

১০

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে ফ্লেমিংয়ের নতুন ছক

১১

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

১২

ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ, গোয়েন্দাদের সতর্কতা

১৩

বয়স বাড়লেও কেন নতুন করে অ্যালার্জি হয়, জানুন কারণ ও করণীয়

১৪

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজন গ্রেপ্তার

১৫

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৬

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

১৭

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

১৮

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

১৯

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

২০