গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, ছাত্রশিবির ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েম ওই পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৯ দফার আলোচনায় ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিল। পরে আলোচনার ভিত্তিতে ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি’ নিষিদ্ধের বিষয়টি যুক্ত হয়।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, ছাত্রশিবির এখন নিজেই সবচেয়ে বড় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্রসংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ডাকসুর বর্তমান ভিপিসহ অনেক নেতা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাদিক কায়েম ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দেওয়া পূর্বের অঙ্গীকার থেকে সরে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ কারণে তিনি সাদিক কায়েমের কাছে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ডাকসুর ভিপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এর আগে গত সোমবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ ছাড়েন সাদিক কায়েম। একই দিনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
পরদিন ওই নেতারা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন সাদিক কায়েম। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একইভাবে, রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের বিষয়ে সাদিক কায়েমের কোনো প্রতিক্রিয়াও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন