জুলাইয়ের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই বিশেষ স্মরণসভা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, জুলাইয়ের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে লেখা রয়েছে— “গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা— ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।”
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় জুলাইয়ের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে বলপ্রয়োগ, গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
সরকার প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাইয়ের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাইয়ের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ, তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন