যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটিতে অব্যাহত হামলা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় যুদ্ধবিরতি ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি উদ্যোগ সামনে আসার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববার (২ আগস্ট) বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হেলিকপ্টারের হামলায় একজন নারী ও একজন পুরুষ নিহত হন। এছাড়া খান ইউনিসে পৃথক হামলায় তিনজন এবং গাজা সিটির পুরোনো এলাকায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য স্থানে চালানো হামলাতেও কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এর দুই দিন আগে ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজায় গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ দফার একটি নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, জিম্মিদের মুক্তি এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এখনো ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করে, তাহলে তারা অস্ত্র আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক নেতা মোহাম্মদ দাহলান জানিয়েছেন, ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তার দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে হলে গাজায় চলমান সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্য করুন