গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই দশকের প্রশাসনিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিজেদের প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে হামাস। সংগঠনটি জানিয়েছে, এখন থেকে গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করবে নবগঠিত ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)।
সোমবার দেওয়া এক ঘোষণায় হামাস জানায়, প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হলো।
গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের আওতায় এনসিএজি গঠন করা হয়। নতুন এই কমিটির দায়িত্ব হবে গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা এবং সরকারি সেবা কার্যক্রম সচল রাখা। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিলিস্তিনি সরকারি কর্মকর্তা আলী শাত।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই সিদ্ধান্ত গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০০৭ সালে ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হামাসই অঞ্চলটির প্রশাসন পরিচালনা করে আসছিল।
হামাসের সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা নতুন কমিটির কাছে নির্বিঘ্নে হস্তান্তরের লক্ষ্যেই বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ইসরায়েলের সম্ভাব্য অজুহাত এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থায় গাজার প্রশাসনিক শাসনভার আর হামাসের হাতে থাকবে না।
অন্যদিকে, হামাসের ঘোষণার পরপরই বোর্ড অব পিস জানায়, এনসিএজি শুধু বেসামরিক প্রশাসনই নয়, গাজা উপত্যকার সব ধরনের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও গ্রহণ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বোর্ডটি জানায়, ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন এবং এক অস্ত্র’—এই নীতির ভিত্তিতেই গাজার সব অস্ত্র একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই পদক্ষেপ গাজার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করলেও নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
মন্তব্য করুন