যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর আবারও তীব্র উত্তেজনায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, ‘ইরানের এখন ভালো আচরণ করাই শ্রেয়।’
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।
এর আগে ইরান দাবি করে, বাহরাইন ও কুয়েতসহ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরও টানা কয়েক দিনের সংঘাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, সমঝোতা থেকে বাস্তব কোনো সুবিধা না পেলে তা মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা তেহরানের নেই। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আলোচনার পাশাপাশি প্রতিরোধও তাদের কৌশলের অংশ।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না। তবে তারা জানে কী করতে হবে। তাদের ভালো আচরণ করাই শ্রেয়।’
পরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান বর্তমানে সমঝোতায় আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনার পাশাপাশি অন্য বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রায় ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণস্থল, কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস এলাকাও অভিযানের আওতায় ছিল বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের পর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, অবরোধের ফলে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য পথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন