হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার একদিন পরই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের নির্দেশের পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এর পরপরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার (আইআরএনএ) তথ্য অনুযায়ী, কিশ দ্বীপের আকাশে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাস, কোনারাক ও চাবাহার শহরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হামলার পর চাবাহারের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।
সর্বশেষ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি আর বহাল নেই। তার এ ঘোষণার পর পাকিস্তান, কাতার এবং জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানায়।
তবে এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
এদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তার প্রতি ইরানের হুমকি মোকাবিলায় সর্বশেষ এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক ‘অযৌক্তিক হামলার’ জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রধান আলোচক বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কেবল ‘ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার’ আওতায়ই স্বাভাবিক থাকবে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘চাপ প্রয়োগ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি রয়েছে। যদি হামলা করা হয়, তবে তার জবাবও হামলার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।’
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন