সহশিল্পীর সঙ্গে আলিঙ্গনের দৃশ্যে অভিনয় করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সাহার হাশমি। কেউ কেউ তাঁকে কটাক্ষ করে ‘পাকিস্তানের ইমরান হাশমি’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। এবার সেই বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে সাহার বলেন, সমালোচনা একজন শিল্পীকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করে। তবে শুধু আলিঙ্গনের দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির সঙ্গে তাঁর তুলনা করাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘পর্দায় কাউকে আলিঙ্গন করা প্রথম বা শেষ অভিনেতা আমি নই। তাই এই তুলনাটা আমার কাছে একেবারেই অদ্ভুত।’
সম্প্রতি পাকিস্তানি নাটক ‘জঞ্জিরেঁ’ ও ‘শাইদাই’-এ সাহারের কয়েকটি আলিঙ্গনের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই তাঁকে ‘পাকিস্তানের ইমরান হাশমি’ বলে সমালোচনা শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে সাহার বলেন, একজন অভিনেতা চিত্রনাট্য ও পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন। দৃশ্যটি করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেই সেটি করার সিদ্ধান্ত নেন।
পাকিস্তানের সংস্কৃতিতে এমন দৃশ্য নিয়ে আপত্তি থাকলেও বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন বলে জানান সাহার। তবে তাঁর ভাষ্য, বাস্তব জীবনেও অনেক সমাজে আলিঙ্গন একটি স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, নারী অভিনেত্রীরা অনেক সময় পুরুষ সহশিল্পীদের তুলনায় বেশি সমালোচনার মুখে পড়েন। মজা করে তিনি বলেন, ‘হাশমি-হাশমি নামের মিলের কারণেই হয়তো আমাকে বেশি টার্গেট করা হচ্ছে।’
তবে দর্শকদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনের নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে মানসিকভাবে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে বলেও স্বীকার করেন।
সাহার জানান, একসময় এসব সমালোচনার কারণে রাতে কেঁদে ঘুমাতে যেতেন। তবে সহকর্মীদের সমর্থন তাঁকে সেই কঠিন সময় পার হতে সাহায্য করেছে।
উল্লেখ্য, ‘জুলম’, ‘ইশক হুয়া’ ও ‘মান মাস্ত মালাং’-এর মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানি টেলিভিশনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সাহার হাশমি।
মন্তব্য করুন