ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ক্যামেরা বসিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনস্থলে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
পুলিশের দাবি, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী বা অসামাজিক ব্যক্তি যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের ওপর নজরদারি ও তা দমন করতেই মোদি সরকার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ক্যামেরায় ধারণ করা মুখাবয়ব রিয়েল টাইমে পুলিশের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি শনাক্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য সাধারণ আন্দোলনকারীদের নজরদারি করা নয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য।
গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাদা পোশাকধারী একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
বর্তমানে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।
এদিকে সিজেপির প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠক শেষে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার আরও সময় চেয়েছে। তবে অন্য দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে এনডিটিভি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। ক্ষমতাসীন বিজেপি তার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।
ফলে একদিকে আন্দোলনস্থলে নজরদারি জোরদার করা এবং অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন