পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজনের মিশন শেষে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল; হামলার দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি।
জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের বাসিন্দা ইসাবেলা গঞ্জালেস গত ১৭ জুলাই হামলায় নিহত হন। অন্যদিকে হাওয়াই থেকে দায়িত্বে যোগ দেওয়া টাইলার জেমস ফিহান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ১৮ জুলাই মারা যান। ফিহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, এই মিশন শেষ করে দেশে ফিরে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তার।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত শনিবার এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। পেন্টাগনও নিশ্চিত করেছে, দুই সেনাসদস্য শত্রুপক্ষের সরাসরি হামলায় নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলমান সংঘাতের বিভিন্ন অভিযানে, ড্রোন নিষ্ক্রিয়করণ এবং নিখোঁজ সেনাদের মরদেহ উদ্ধারের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
গত মার্চের পর এই প্রথম ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
সম্প্রতি সংঘাত কিছুটা কমে এলেও গত সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, আর ইরানও পাল্টা বিভিন্ন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্য করুন