অগ্রসর হচ্ছে ‘ইয়েলো লাইন’; নিয়ন্ত্রণে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা, বিপর্যস্ত জনজীবন ও মৌলিক সেবা
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হওয়ায় ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে গাজা উপত্যকা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থাপিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক, যা ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত, এখন আর শুধু সেনা প্রত্যাহারের সীমারেখা নয়—এটি ধীরে ধীরে অগ্রসরমান সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানি এবং সংকুচিত হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের এলাকা।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়াবলি সমন্বয়কারী কার্যালয় (ওসিএইচএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণসীমা গাজার মোট ভূখণ্ডের ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে, যা বছরের শুরুতে ছিল ৫৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় তিন হাজার ৭৯৫ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব ঘটনায় অন্তত এক হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে অগ্রসরমান সীমারেখার কাছাকাছি এলাকায়।
ডিআর আল-বালাহ ও জেইতুন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ড্রোন ও ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে রাতারাতি কংক্রিটের ব্লক কয়েকশ মিটার পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও জনবসতি ধীরে ধীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বলয়ের মধ্যে চলে যাচ্ছে।
জেইতুন এলাকায় বহু পরিবার সীমারেখা থেকে মাত্র ৭০ মিটার দূরে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে বসবাস করছে। প্রতিদিনই সেখানে গোলাগুলি ও বিমান হামলার আশঙ্কা থাকলেও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মতো কোনো বিকল্প তাদের নেই। উত্তর গাজার কিছু এলাকায় এই নিয়ন্ত্রণরেখা প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, সীমানা সম্প্রসারণের কারণে গাজার পৌরসেবা ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রধান পানির কূপ, পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চলে যাওয়ায় গাজা সিটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন