জেন-জি আন্দোলনে তরুণদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে দাবি করে শিক্ষা সংস্কার ও বৃহত্তর গণআন্দোলনের ইঙ্গিত দিলেন লাদাখের সমাজকর্মী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের কারণে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ইস্যুর বাইরে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সোনাম ওয়াংচুক বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলন তরুণদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। তারা এখন বিশ্বাস করছে, ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে ভারতজুড়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনের চাপের মুখে ২৫ জুলাই ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে উল্লেখ করেন ওয়াংচুক। তার মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে গণআন্দোলন সরকারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক এর আগে দিল্লিতে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এ সময় তিনি শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করেন। অনশনের ফলে তার ১১ কেজি ওজন কমে যায়। পরে তিনি অভিযোগ করেন, অনশনের শেষ দিকে তাকে জোর করে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আন্দোলনের পর সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সহায়তার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে ওয়াংচুকের দাবি, এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান পরীক্ষাপদ্ধতি মুখস্থনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি তৈরি হচ্ছে না।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও পরীক্ষার কাঠামো এমন হওয়া উচিত, যা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে।
ওয়াংচুক আরও দাবি করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী এখনো মামলা, পুলিশি হয়রানি ও অনলাইন অপপ্রচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, সরকারের ধীরগতির পদক্ষেপই তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকটি উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির পরাজয়কেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন ওয়াংচুক। তবে তিনি মনে করেন, সরকার এখনো ভুল সংশোধন করে নীতি পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারে।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে ওয়াংচুক বলেন, তিনি অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে চান। মহাত্মা গান্ধীর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য করুন