আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২২ জন

ইসরায়েলের দখলদারত্বে ক্রমেই ছোট হচ্ছে গাজা, বাড়ছে প্রাণহানি

অগ্রসর হচ্ছে ‘ইয়েলো লাইন’; নিয়ন্ত্রণে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা, বিপর্যস্ত জনজীবন ও মৌলিক সেবা

যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হওয়ায় ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে গাজা উপত্যকা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থাপিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক, যা ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত, এখন আর শুধু সেনা প্রত্যাহারের সীমারেখা নয়—এটি ধীরে ধীরে অগ্রসরমান সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানি এবং সংকুচিত হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের এলাকা।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়াবলি সমন্বয়কারী কার্যালয় (ওসিএইচএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণসীমা গাজার মোট ভূখণ্ডের ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে, যা বছরের শুরুতে ছিল ৫৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় তিন হাজার ৭৯৫ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব ঘটনায় অন্তত এক হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে অগ্রসরমান সীমারেখার কাছাকাছি এলাকায়।

ডিআর আল-বালাহ ও জেইতুন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ড্রোন ও ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে রাতারাতি কংক্রিটের ব্লক কয়েকশ মিটার পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও জনবসতি ধীরে ধীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বলয়ের মধ্যে চলে যাচ্ছে।

জেইতুন এলাকায় বহু পরিবার সীমারেখা থেকে মাত্র ৭০ মিটার দূরে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে বসবাস করছে। প্রতিদিনই সেখানে গোলাগুলি ও বিমান হামলার আশঙ্কা থাকলেও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মতো কোনো বিকল্প তাদের নেই। উত্তর গাজার কিছু এলাকায় এই নিয়ন্ত্রণরেখা প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে, সীমানা সম্প্রসারণের কারণে গাজার পৌরসেবা ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রধান পানির কূপ, পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চলে যাওয়ায় গাজা সিটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

দুই-তিন দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: জ্বালানিমন্ত্রী

কার্টার থেকে ট্রাম্প— কেন বারবার ইরানকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র?

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়লেন প্রবীণ নেতা গোলাম রব্বানী

‘নাহিদ-আসিফদের ডকুমেন্টারিতে দেখানো উচিত ছিল’: বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে শামারুহ মির্জার মন্তব্য

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি চাইল রাষ্ট্রপক্ষ, ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শুরু

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, রাতেই বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ

‘মোদি সরকার দুর্বল হয়েছে, দাবি মানা না হলে আরও বড় আন্দোলন’: সোনাম ওয়াংচুকের সতর্কবার্তা

‘ম্যাডাম যুবলীগ’ যুথি: পদবাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিতর্কের দীর্ঘ অভিযোগ

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতি’র অভিযোগ, ওয়াকআউট করলেন আখতার হোসেনরা

১০

চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৬ হত্যাকাণ্ড: হাছান মাহমুদ-নওফেল-ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

১১

‘অহেতুক ইস্যুতে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১২

‘ষড়যন্ত্রকারীরা আপনার চারপাশেই’—প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন অলি আহমদ

১৩

‘দেশে আসুন, দেখা হবে রাজপথে’—শেখ হাসিনার উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির বার্তা

১৪

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুত থাকুন’—দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের

১৫

হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টা: এক দফা আন্দোলন থেকে ক্ষমতার পালাবদলের শেষ অধ্যায়

১৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১০; ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

১৭

‘জুলাই জাদুঘর নির্মাণ ছিল যুদ্ধের মতো কঠিন’, স্মৃতিচারণে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

১৮

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর

১৯

৭ হাজার মুক্তার রাজকীয় গাউনে মুগ্ধ করলেন ঐশ্বরিয়া, কান ২০২৬-এর অদেখা লুক ভাইরাল

২০