
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দেওয়া এ ঘোষণাকে আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং নৌ পরিবহনেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে হুথিদের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব যে ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে, তার জবাব হিসেবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে।
হুথিদের এই ঘোষণার পর ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করে এর জবাব দেবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর বাব আল-মান্দেব সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে। ফলে এই পথেও যদি বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে, তবে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি অচল হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর আগে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাসের প্রভাব দেখা গেছে।
হুথিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। পরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় দাম কিছুটা কমলেও লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনের বিমা ব্যয় বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয়ও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী তেহরানের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্থতাকারীরা ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে পাকিস্তানের দুটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ইসলামাবাদের কাছে আবারও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তান সফরও করেছেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন