যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করলে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই সোমবারই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।
নতুন অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) কে হবেন, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
লেবার পার্টির নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তার সরকারে দলের সব অংশ এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘদিন অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দেশের পুনঃশিল্পায়নকে তিনি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করলেই নতুন ডানপন্থী শক্তির মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামাজিক সেবা (সোশ্যাল কেয়ার) ব্যবস্থার সংস্কারকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বার্নহ্যাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমে।
এদিকে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, বার্নহ্যামের জনসমর্থনের নতুন ম্যান্ডেট নেই। তাই অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচন হওয়া উচিত।
অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি বার্নহ্যামের সহযোগিতামূলক রাজনীতির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে পানি খাতের সংস্কার, এনএইচএসকে আরও সহায়তা এবং পারিবারিক পরিচর্যাকারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে ফেরেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। পরে লেবার পার্টির ৩৭৯ জন এমপি ও ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থনে তিনি দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হন। গত জুনে স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর স্যার কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।
মন্তব্য করুন