রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত তিন মাসে শুধু রাজধানীর একটি হাসপাতালেই ২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবই এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ।
কী এই হাম, কীভাবে ছড়ায়?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে।
আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে সহজেই ছড়ায়
বাতাস বা পৃষ্ঠে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে
ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়াতে পারে
টিকা না নেওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে
হামের প্রধান লক্ষণ
প্রথম দিকে সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হলেও পরে লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
জ্বর (১০৪°F পর্যন্ত উঠতে পারে)
শুষ্ক কাশি
নাক দিয়ে পানি পড়া
চোখ লাল হওয়া
মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কোপলিক স্পট)
পরে মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে নিচের ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে:
টিকা না নেওয়া শিশু
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি
গর্ভবতী নারী
ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি রয়েছে যাদের
জটিলতা কতটা মারাত্মক?
হামকে অনেক সময় সাধারণ রোগ মনে করা হলেও এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে:
নিউমোনিয়া
কানের সংক্রমণ
মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)
শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা
গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা অকাল প্রসব
চিকিৎসা ও করণীয়
হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে—
জ্বর কমানোর ওষুধ
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
তরল খাবার গ্রহণ
ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট
জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো
এমএমআর (MMR) টিকা
নির্ধারিত বয়সে টিকা দিলে ঝুঁকি অনেক কমে
সংক্রমণের সন্দেহ হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিলে রোগের তীব্রতা কমতে পারে
বিশেষ সতর্কতা
লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখুন
শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন
জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি
সার্বিকভাবে, হাম এখন আর অবহেলার রোগ নয়। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
মন্তব্য করুন