জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করতে পারে; শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অহেতুক ইস্যু তৈরি করে একটি মহল দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
জাদুঘরের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শন করেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার গণআন্দোলন দমনে কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিই সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অংশ হবে।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেককে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।” একই সঙ্গে তিনি জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
ড. ইউনূস আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এই জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো—এখানে বহু বছরের পুরোনো নয়, বরং সদ্য ঘটে যাওয়া ইতিহাস তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা একে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
মন্তব্য করুন