স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও একটি চলাচলযোগ্য সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ছিলেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বাঁশদাহ বর্মতলপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার। জনপ্রতিনিধিদের একের পর এক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ না থাকায় অবশেষে নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণে নেমেছেন গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত গ্রামটিতে যাতায়াতের কোনো উপযুক্ত রাস্তা নেই। ফলে প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীদের কাদা-পানি, ঝোপঝাড় এবং সরু আইল পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
গ্রামবাসীরা জানান, রাস্তার অভাবে অনেকেই এই গ্রামে বিয়ের সম্পর্ক করতেও অনীহা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়ক নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
অবশেষে দুর্ভোগের অবসানে স্থানীয় ২০ জন জমির মালিক স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দিলে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তবে তারা জানান, এই কাঁচা রাস্তা স্থায়ী ও টেকসই করতে সরকারি সহায়তা এখন সবচেয়ে জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন রায় ও মিনতি রানী বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে তারা অবহেলার শিকার। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ নেন না।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর পাশে থাকবে।
মন্তব্য করুন