সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের রায় অস্বীকার করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি; ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলবে।
‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’—এমন মন্তব্য করে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, অন্যায় ও অবিচারের পরিণতি একসময় সামনে আসবেই। সরকারের প্রতি বাস্তবতা উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে পতন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, কোনো বিপ্লব বয়সের সীমারেখায় আটকে থাকে না। জুলাইয়ের আন্দোলনে শিশু থেকে প্রবীণ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ভবিষ্যতের যেকোনো আন্দোলনেও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জেল-জুলুম বা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করা যাবে না। ন্যায়ের সংগ্রামের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারাই যদি একই ধরনের আচরণ করেন, তাহলে জনগণ তাদেরও ফ্যাসিবাদী হিসেবে বিবেচনা করবে। কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকে বাংলার মাটিতে স্থান দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ইতিহাসে যারা মানুষের মতামত ও গণরায়কে উপেক্ষা করেছেন, তাদের শেষ পরিণতি ভালো হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্নভাবে আপসের চাপ ও প্রলোভন দেওয়া হলেও জনগণের গণরায় রক্ষার বিষয়ে তারা কোনো আপস করবেন না।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরে দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
সবশেষে তিনি বলেন, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে। একটি মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চলবে।
মন্তব্য করুন