দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ, সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। তিনি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার (ডেটাবেজ) তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগব্যাধি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন