প্রথম ম্যাচে দুই দলই হেরেছিল। তাই দ্বিতীয় ম্যাচটা প্যারাগুয়ে আর তুরস্ক, দুই দলের জন্যই ছিল টিকে থাকার লড়াই। সেই লড়াইয়ে ১০ জনের দল নিয়েও জিতে গেছে প্যারাগুয়ে। আর এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো তুরস্ককে।
ম্যাচের কিছুক্ষণ পর তুরস্কও সমতায় ফেরার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ফ্রি কিক থেকে আসা বলে মাথা ছোঁয়ান মের্ত মুলদুর। প্যারাগুয়ের এক ডিফেন্ডারের মাথা ছুঁয়ে বল জালের দিকে যাচ্ছিল, তবে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে সেটি।
এরপর প্যারাগুয়ের কোচিং স্টাফের একজনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি, যদিও কী কারণে তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি।
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটা ঘটে এর কিছুক্ষণ পরই। প্যারাগুয়ের স্ট্রাইকার পিত্তাকে মাঝমাঠের কাছে ফাউল করা হলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দুই দলের অধিনায়ক নিজ নিজ খেলোয়াড়দের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, পরে রেফারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সেই জটলার মধ্যেই মুখ ঢেকে তুরস্কের এক খেলোয়াড়কে কিছু বলেছিলেন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন। ভিএআর দেখে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এবারের বিশ্বকাপে মুখ ঢেকে কিছু বললে লাল কার্ডের নতুন নিয়ম চালু হয়েছে, আর সেই নিয়মে প্রথম লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড় হয়ে গেলেন আলমিরন।
বিরতির বাঁশি বাজার পরও দুই দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। দুই দলের বদলি খেলোয়াড় ও স্টাফরা মাঝমাঠের কাছে জড়ো হন। সবাই একই রঙের বিব পরে থাকায় কে কোন দলের তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল প্যারাগুয়ে। বক্সে দারুণ একটা সুযোগ তৈরি হলেও এনসিসো সেটা কাজে লাগাতে পারেননি।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তুরস্কও। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে উইং থেকে আসা ক্রসে মাথা ছোঁয়ান মেরিহ দেমিরাল। তবে বল লক্ষ্যের একটু বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। হতাশায় কেঁদেই ফেলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত শুরুর গোলটাই ধরে রাখে প্যারাগুয়ে। ১০ জনের দল নিয়েও ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। আর এই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো তুরস্ককে।
মন্তব্য করুন