প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব পদটি তিন মাস ধরে শূন্য। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যালয়গুলোর একটিতে এমন দীর্ঘ শূন্যতা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ঘটনা। ফলে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষায় আটকে আছে কিনাÑ পদটি ঘিরে এমন আলোচনা চলছে।
বিএনপি সরকার দায়িত্বগ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব পদটি শূন্য রয়েছে। ওই দিন পিএমওর তৎকালীন সচিব সাইফুল্লাহ পান্নাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। প্রায় চার মাস হতে চললেও এখনও পদটিতে নতুন কোনো নিয়োগ হয়নি। সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যালয়গুলোর একটিতে এমন দীর্ঘ শূন্যতা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ঘটনা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ রেজাউল হায়দার বলেছেন, ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি কোনো পদ শূন্য থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে সরকারের বর্তমান অবস্থান বেশ সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেবল লবিংয়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পদে নিয়োগ পাওয়া এখন আগের মতো সহজ নয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, সাধারণত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ দীর্ঘ সময় খালি রাখা হয় না।
নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত বিষয় তদারকি করলেও দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয়, কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবস্থাপনা এবং নথি নিষ্পত্তির বড় অংশ সচিবের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকে একাই সামলাচ্ছেন মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নথি ও সমন্বয়মূলক কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। গত তিন মাসে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত কাউকে নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের অতীত ভূমিকা ও প্রশাসনিক ভাবমূর্তি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীত রাজনৈতিক সরকারের সময় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে। এদের একজন ‘শ’ আদ্যক্ষরের। অতীত কর্মকাণ্ড এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি আর এগোয়নি। আবার কয়েকজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতির কথা আলোচনায় এসেছে।
মন্তব্য করুন