রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোথাও কোথাও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে তৈরি হচ্ছে জলজট। এর মাঝেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি। ঘরমুখো মানুষের স্রোতের পাশাপাশি কোরবানি পশুর হাটগুলো এখন জমজমাট, তবে বৃষ্টির কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই ভোগান্তি বাড়ছে।
অধিদপ্তরের ৫ দিনের আবহাওয়ার বার্তায় বলা হয়েছে, সোমবার থেকে পরবর্তী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের প্রবণতা বাড়তে পারে। মঙ্গলবার রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহের অনেক এলাকায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদের আগের দিন অর্থাৎ বুধবারেও দেশের অধিকাংশ বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলা-কে, মে মাস মূলত কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের মৌসুম। এই সময়ে আকাশে ঘন মেঘ জমলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টি নেমে আসে। তবে বজ্রঝড়ের নিখুঁত পূর্বাভাস কয়েক ঘণ্টা আগে ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
আবুল কালাম মল্লিক আরও, গাণিতিক মডেল অনুযায়ী ঈদের দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে। তবে এই বৃষ্টি পুরো ঢাকা জুড়ে একযোগে না হয়ে, বিভাগের দু-একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কোরবানির পশুর হাটগুলোর অবস্থা নাজেহাল। সোমবার দুপুরের তীব্র বৃষ্টিতে ঢাকার বেশ কিছু হাটে হাঁটু পানি জমে যায়। বিক্রেতাদের কাদার মধ্যেই পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যার ফলে হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল বেশ কম।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঈদের আগের বাকি দুটো দিনও দেশের আটটি বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে হাটের শেষ দিনে বৃষ্টির তোড় আরও বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। চট্টগ্রাম ও বরিশালের কিছু অংশেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে খুলনা ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
|
২০ জুন, ২০২৬