সুদূর আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে খেলা চললেও বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা চলছে বাংলাদেশেও। বরাবরের মতো এবারও কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মানুষ মেতেছেন এই উন্মাদনায়। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন ভক্তরা। বাসা-বাড়ির ছাদে পতাকাও টানিয়েছেন অনেকে। গোটা দেশ সেজেছে বর্ণিল পতাকা, ফেস্টুন আর ব্যানারে। সেই সঙ্গে দেওয়াল লিখনেও প্রিয় ফুটবল তারকাদের প্রতিকৃতি এঁকে ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছেন কেউ কেউ। রাত জেগে খেলা দেখার আবেশ তো আছেই।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথে চিরপরিচিত খুনসুটিতেও মেতেছেন সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এক দলের সমর্থকরা আরেক দলের সমর্থকদের মজার ছলে পচানোর সুযোগও ছাড়ছেন না। সেই সঙ্গে জার্মানি, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, মরক্কোসহ অন্যান্য দলের সমর্থকরাও পছন্দের দলের সমর্থনে গলা ফাটাচ্ছেন। কোথাও কোথাও মিছিলও দেখা গেছে।
ব্যানারের মাঝ বরাবর ইংরেজিতে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর লিখে দিয়েছেন বাবলু। আর একেবারে শেষ প্রান্তের লেখায় ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা-ই চ্যাম্পিয়ন হবে- এমন আশাবাদও ফুটিয়ে তুলেছেন দরিদ্র এ রিকশাচালক। মজার ব্যাপার হচ্ছে- মাথায় যে হেলমেট পরেছেন, সেটাতেও আর্জেন্টিনার পতাকা আঁকা।
আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে আঁকা রিকশা রাজধানীর সড়কে চালানোর অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি জানান, রাস্তায় প্রায় সবাই কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। রিকশা থামিয়ে কথা বলেন- আনন্দের সঙ্গেই। এই কৌতূহলীদের দলে শিশু-কিশোরদের সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক কেউ দেখে ফেললেই হলো, রীতিমতো উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।
মজার বিষয় হচ্ছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য তার রিকশায় বিশেষ ‘ভাড়া ছাড়’ও দেন তিনি।
কবে থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাবলুর সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল- ‘ছোটবেলা থেকেই, যেদিন থেকে খেলা বুঝা শুরু করেছি।’ প্রিয় ফুটবল তারকা কে?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে ছিল ম্যারাডোনা। আর এখন তো মেসির নামটাই সবার আগে চলে আসে।’
সবশেষে জানতে চাওয়া ছিল, ‘রিকশায় লাগানো ব্যানারে যে আগাম লিখে রেখেছেন, ২০২৬ সালেও চ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা। এতটা নিশ্চিত হলেন কীভাবে?’ হাসতে হাসতে বাবলুর জবাব ছিল অনেকটা এরকম- ‘সেটা কী আর বলা লাগে। আর্জেন্টিনা যেভাবে ফুটবলটা খেলে, এবারও তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে। বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে আমার কথাটা মিলিয়ে নেবেন।’
গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া মিটিয়ে এবার ছবি তোলার পালা। হাসিমুখে বিভিন্নভাবে ছবি তুললেন বাবলু। বারবার জানতে চাইছিলেন- ‘পত্রিকার পাতায় আমার ছবি দেখা যাবে তো! যদি দেখা যায়- তাহলে আমার মতো কোটি কোটি আর্জেন্টিনার ভক্ত আরও উৎসাহিত হবেন। প্রিয় দলের জন্য ভালোবাসা আর সমর্থন আরও খানিকটা বাড়বে। এতেই আমার শান্তি।’
মন্তব্য করুন