অনলাইন ডেস্ক
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩২ জন

খুলনা বক্ষব্যাধি হাসপাতাল নিজেই ধুঁকছে

খুলনার মিরেরডাঙ্গা বিভাগীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এখন নিজেই ব্যাধিতে ভুগছে। সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং জনবলের অভাব নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ হাসপাতাল। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে বক্ষব্যাধি চিকিৎসা চলার কারণে এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমেছে। অনেকে বাসায় বসে চিকিৎসা নেওয়ায় হাসপাতালের ইনডোরে রোগী একেবারেই কম।

নাগরিক সমাজ বলছে, হাসপাতালের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিলে এই হাসপাতালটি বর্ধিত করে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা সম্ভব। একইসঙ্গে বক্ষব্যাধি চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব। জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ হলে একদিকে জনবল নিয়োগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং চিকিৎসাসেবার নতুন মাত্রা তৈরি হবে খুলনায়।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের আবাসিক রুমগুলোর সিলিং থেকে চুন-সুরকি খসে পড়ছে। সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় রয়েছে হাসপাতাল। তুলনামূলক কম রোগী থাকায় পুরো হাসপাতালে সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে।‘প্রায় দুই মাস ধরে এখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছি। চিকিৎসায় কোনো গাফেলতি নেই। তবে হাসপাতালটির অবস্থা খুবই খারাপ। মাঝে মধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে। আতঙ্কে থাকতে হয়। রাতেতো ভয় লাগে মাথায় আবার ছাদ ভেঙে না পড়ে।’

অন্যদিকে হাসপাতালের জায়গার একটি বিশাল স্থান জুড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত ভবন। গ্যারেজে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। চারদিকে নেই নিরাপত্তার জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের আউটডোরে গড়ে দৈনিক ৭০-৮০ জন রোগী আসে। আর আবাসিকে ৪০-৪৫ জন রোগী থাকে। এখানে চিকিৎসকসহ ১৮৪ মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে জনবল আছে মাত্র ১১৬ জন। শূন্য রয়েছে ৬৮টি পদ। বিভাগীয় এ হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। শূন্য রয়েছে ২ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ। ২ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মধ্যে আছেন ১ জন, প্যাথলজিস্ট পদ রয়েছে শূন্য, রেডিওলজিস্ট পদও আছে শূন্য, মেডিকেল অফিসার আছেন ৪ জন, উপ সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদ রয়েছে শূন্য, নার্সিং সুপার ভাইজারের ৬টি পদের ১টি শূন্য, সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৮০টি পদের একটি শূন্য, স্টাফ নার্সের ১০টি পদের তিনটি শূন্য, স্টুয়ার্ড পদও রয়েছে শূন্য, সহকারী সেবিকার ১৭টি পদের ১টি শূন্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও) পদ রয়েছে শূন্য, অফিস সহায়ক ২৫টি পদের মধ্যে ৬টি রয়েছে শূন্য, বাবুর্চির ৫টি পদের ১টি শূন্য, পরিচ্ছন্ন কর্মীর ১৫টি পদের ৩টি শূন্য রয়েছে। এছাড়া প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, ক্যাশিয়ার ও অফিসা সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে।

‘হাসপাতালের চারদিকে নিরাপত্তা নেই। প্রায় সময় পরিত্যাক্ত ভবনগুলোতে চুরি হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। তবে পরিত্যাক্ত ভবনগুলো অপসারণ করে এখানে আধুনিক চিকিৎসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’

ভর্তি রোগী জালাল মোল্যা বলেন, ‘প্রায় দুই মাস ধরে এখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছি। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি নেই। তবে হাসপাতালটির অবস্থা খুবই খারাপ। মাঝে মধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে। আতঙ্কে থাকতে হয়। রাতেতো ভয় লাগে মাথায় আবার ছাদ ভেঙে না পড়ে।’

১৮ মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শাহ জাহান শেখ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু হাসপাতালের সংস্কার দরকার। পুরাতন ভবনগুলোর জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার। প্রায় সময় সিলিং থেকে সিমেন্ট বালি খসে পড়ে। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পড়লে আহত হতে হবে। এজন্য মশারি টানিয়ে থাকতে হয়।’

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল বক্ষব্যাধি রোগের বিশেষ চিকিৎসার জন্য নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালকে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করতে পারলে চিকিৎসাসেবাও দেওয়া সম্ভব। ফুলবাড়িগেট, দৌলতপুর এবং শিরোমনি ঘিরে এখন অনেক মানুষের বসবাস গড়ে উঠেছে। তাদের খুলনা নগরীতে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। এখানে চিকিৎসাসেবা দিতে পারলে স্থানীয়দের ভোগান্তি অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে রোগী কম থাকায় বিশাল এক কর্মীবাহিনীর অলস সময় কাটাতে হয়। এজন্য কর্মপরিধি বৃদ্ধি করলে দুই দিকেই লাভ হবে সরকারের। বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মীরেরডাঙ্গা বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মুহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, হাসপাতাল সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। ছোট একটি বরাদ্দ পেয়ে গত বছর রং ও ছোট ছোট কিছু কাজ কাজ করানো হয়েছে।তিনি বলেন, ভর্তি এবং বহির্বিভাগের রোগীদের আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। তবে জনবল ঘাটতিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালের চারদিকে নিরাপত্তা নেই। প্রায় সময় পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে চুরি হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। তবে পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ করে এখানে আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সে সুযোগ রয়েছে। তাহলে চুরি কমবে এবং মানুষকে বক্ষব্যাধির পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দেয়াও সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।                                                               জাগো নিউজ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আল্লু অর্জুনকে দ্রুত আদালতে হাজিরার নির্দেশ

মেসির ছবি এঁকে মুগ্ধতা ছড়ালেন চঞ্চল চৌধুরী

মোহাম্মদপুর অপরাধীদের অভয়ারণ্য, এদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে

পদ্মার এক ইলিশের দাম ৮ হাজার ৪৬০ টাকা

রিসোর্টের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৭ চুক্তি

ফেনীতে ইয়াবা পাচারের সময় গ্রেফতার তাঁতীদল নেতা

ময়মনসিংহে শিশুকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পরিত্যক্ত কূপে পড়ে একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন

বেফাঁস মন্তব্য করায় ট্রাম্পকে ধুয়ে দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

১০

ব্রাজিল জিতেছে, কিন্তু লড়াইটা দিয়েছে হাইতি: পরিসংখ্যানেই প্রমাণ

১১

৬৪ সেকেন্ডে রেকর্ড গোল, লাল কার্ড দেখেও জিতল প্যারাগুয়ে

১২

জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেশি ফলের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

১৩

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা : শিক্ষামন্ত্রী

১৪

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি: ইসরায়েলি কর্মকর্তা

১৫

একই দিনে মা-মেয়ের জন্মদিন, চমকে দেওয়া কাকতালীয় ঘটনা  

১৬

ব্রাজিল ছেড়ে ইরানকে সমর্থন:দেখলেই সেভেন আপ বলে অপমান করে

১৭

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

১৮

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ

১৯

যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

২০