সালেহ উদ্দিন আহমদ
২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৮ জন

‘কেহ বা মেম্বার, কেহ বা মিনিস্টার’—সুন্দর দিন কি ফিরে আসবে?

“কেহ বা মেম্বার, কেহ বা মিনিস্টার,/ আমরা কি তাহাদের নাম জানিতাম?”

শাহ আবদুল করিম যখন লিখেছিলেন–’আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’–সেই সময় এইসব নাম জানার দরকার ছিল না এবং রাজনীতিতে জনগণের উৎসাহও তেমন ছিল না। মানুষ জানত ঋতুর হিসাব, জমির ফলন, নদীর জোয়ার; ক্ষমতার অন্দরমহলের খুঁটিনাটি জানার দরকার পড়ত না তাদের। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ভোটের হাওয়া শুরু হতেই চায়ের টেবিল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্র আমরা হন্যে হয়ে ঘুরেছি আর অপেক্ষা করেছি জানতে—কে আসবে সরকারে, কে হবেন মেম্বার, কে-বা হবেন মিনিস্টার? কেন জনগণের এত উৎসাহ?

আগে বাংলার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামেই থাকত। চাকরির ধান্দায় কিংবা সরকারি অনুকূল্যের জন্য সরকারের দালালদের পেছনে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো না। এখন ‘দিন হইতে দিন আসে রে কঠিন’; এই উৎকণ্ঠা কেবল কৌতুক নয়, কঠিন বাস্তব। তাই নতুন সরকার মানেই শুধু শপথ নয়—আশার পুনর্জন্ম এবং শঙ্কারও সূচনা।

কৌতূহলের অবসান হলো। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন হিসেবে নিকেশ শুরু হবে—কনস্টেবলের চাকরিটা পাওয়ার জন্য কাকে ধরতে হবে, কে দিতে পারবেন বালু তোলার লাইসেন্সটা, কিংবা কার গলায় মালা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বা প্রক্টর হওয়া যাবে।

কেই বা মন্ত্রী এবং কেমন হলো সরকার—আমরা একবার চোখ বুলিয়ে দেখতে পারি।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভাও শপথ নিয়েছে—২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। যারা পূর্ণমন্ত্রী, সবাই পরিচিত নাম; এদের কেউ কেউ আগে মন্ত্রী ছিলেন, নতুন মুখ কমও কম নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রীই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হলেন। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের ৪১ জন কখনও কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি। বাকি নয়জনের বিভিন্ন সংসদে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নতুন যারা মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই নানান অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। বিএনপির শরিক দলের সবাই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজ।

মন্ত্রীদের কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, এটা জানা হয়ে গেছে জনগণের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ বা প্রজ্ঞাপন জারি না হলে মন্ত্রণালয় বণ্টন চূড়ান্ত ধরা যায় না। শপথ নেওয়া মানেই নির্দিষ্ট দপ্তর পাওয়া নয়। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী শপথের পর দপ্তর বণ্টনের সুপারিশ করেন, এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সবই অনুমান বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবেই গণ্য হয়। তবে কয়েকজনের বিষয়ভিত্তিক সংশ্লিষ্টতা থেকে মন্ত্রণালয় আন্দাজ করা যায়। বিএনপি নেতা এবং সদ্য শপথ গ্রহণ করা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনেকদিন ধরে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলছেন। বিদেশি কূটনৈতিকদের সঙ্গে উঠাবসাও তার বেশি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি হয়তো অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিত্বের তালিকায় দেখে কেউ কি অবাক হয়েছেন? ভূ-রাজনীতি বিষয়ক কোনো মন্ত্রণালয় না থাকায়, তাকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নাকি শেষপর্যন্ত মার্কিন দূতিয়ালিতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেয়ে যাবেন?

বিএনপিতে স্বাস্থ্য খাতে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনই এখন সর্বেসর্বা। তিনি খোদ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তাকে সম্ভবত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জন্যই মন্ত্রী করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবসময় সোচ্চার। তবে বিগত কয়েক দিন ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ফজলুর রহমানের নাম শোনা গেছে সবচেয়ে বেশি। তিনি নেই তালিকায়। মেজর হাফিজকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দেওয়া যেতে পারে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বাণিজ্য বা শিল্প মন্ত্রণালয় পেতে পারেন। এহছানুল হক মিলন আগেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে ছিলেন, এবারও তাই হতে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে হয়তো আইন মন্ত্রণালয়ের জন্যই মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মন্ত্রিসভা বিএনপির আগের সরকারগুলোর মতোই হয়েছে; তেমন কোনো বৈচিত্র্য নেই। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকার পরিচালনায় বিএনপি পূর্বের চেয়েও পরিচ্ছন্নতা ও দক্ষতা আনতে পারবে?

বিরোধীদলের ছায়া মন্ত্রিসভা

যারা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি, তাদেরও তো দরকার কিছু সান্ত্বনা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে তাদেরও ছায়ামন্ত্রী থাকবে।

একদিক দিয়ে এটা খুব ভালো; এই জন্য যে তরুণ নেতাদের বিরোধিতা ও আন্দোলন করতে কথায় কথায় শাহবাগে দৌড়াতে হবে না। তাদের ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদেই নিজ নিজ বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ‘শঙ্কা’, বিকল্প উৎসের সন্ধান

ইরানের নতুন নেতৃত্বে পছন্দের তিনজন আছেন: ট্রাম্প

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন

ইফতারে ড. ইউনূসসহ সদ্য বিদায়ি উপদেষ্টারা

পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চিত্র

টাকা ভর্তি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৫ জন

ঢাকাসহ দেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জে সরকারী গাছ কর্তন ও অবৈধভাবে পুকুরের মাটি কাটার অভিযোগ

গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

ইরানের ওপর হামলার ঝুঁকি নিয়ে ট্রাম্পকে শীর্ষ জেনারেলের সতর্কবার্তা

১০

রোজা এলেই প্রাণ ফিরে পুরান ঢাকায়, চকবাজারে চার শতাব্দীর ইফতার উৎসব

১১

বেশি ফাইবার মানেই সুস্বাস্থ্য নয়, হজমের সমস্যায় হতে পারে হিতে বিপরীত

১২

অপরাধ-মানসিকতা তৈরির ভয়ংকর ফাঁদ ‘অ্যালগরিদম’

১৩

রোজায় বাড়তি ক্যালরির খাবার নয়, বেছে নিন পুষ্টিকর খাবার

১৪

২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা, স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ

১৫

এইচএসসির ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

১৬

কুয়াকাটায় দোকানে হামলা, স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেফতার

১৭

এক টাকার ইফতার বিক্রি!

১৮

একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

১৯

‘কেহ বা মেম্বার, কেহ বা মিনিস্টার’—সুন্দর দিন কি ফিরে আসবে?

২০