রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার দুপুরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা।
দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে কম্পন
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন দুলতে দেখা যায়। আতঙ্কে অনেকেই ঘর ও অফিস থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ কবীর একে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা United States Geological Survey (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।
পরপর দুই দফা কম্পন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার বলেন, পরপর দুই দফায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। তিনিও উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা বলে নিশ্চিত করেছেন।
সাতক্ষীরা থেকে আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে জানা যায়, সেখানে জোরালো ঝাঁকুনি অনুভূত হয় এবং অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
কলকাতাতেও কম্পন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ একাধিক জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সেখানে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৫।
দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ভূমিকম্প
এর মাত্র দুই দিন আগে, বুধবার রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার। সেটিও মাঝারি মাত্রার ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:
আতঙ্কিত না হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিন
লিফট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
ভারী আসবাব ও কাচের জানালা থেকে দূরে থাকুন
জরুরি যোগাযোগ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখুন
মন্তব্য করুন